গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অলস পড়ে আছে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় গড়ে উঠা পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল। গত জানুয়ারিতেই সাড়ে ১২ মিটার গভীরতার এবং ২০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ এনে নব্য পরীক্ষা হয়েছে এই টার্মিনালটির। কিন্তু চালু করা যায়নি এখনও। জটিলতা সিদ্ধান্তের, কে করবে টার্মিনালটির পরিচালনা?

অবশেষে হল সিদ্ধান্ত। অবসান ঘটল পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে সিদ্ধান্তের। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব সৌদি আরবকে দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, সৌদি সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল পাচ্ছে এই দায়িত্ব। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আগামী ১৪ নভেম্বর আনু্ষ্ঠানিক চুক্তি করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, ‘তারা আসছেন। তারা প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরাও আমাদের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। তারা সেই প্রস্তাবনার উত্তরও দিয়েছেন। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা চূড়ান্ত যাচাই বাছাই করছি। এর মধ্যেই বেশি কিছু আলাপ-আলোচনা সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে, টেকনিক্যাল আলাপ-আলোচনাগুলো শেষ করে ফেলেছি। আমরা আশা করছি, বাকি যে কাজগুলো রয়েছে, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় জি টু জি’র মাধ্যমে সৌদি আরবের এই প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। আগামী ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সৌদি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। তবে এই টার্মিনালে ব্যবহারের যন্ত্রপাতি সৌদি প্রতিষ্ঠানকেই আনতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘তারাই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনবে। তাছাড়া আমাদের আলোচনা বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে, সেটি হচ্ছে আমরা আরএফপি এবং কনসেশন এগ্রিমেন্টের খসড়া পাঠিয়েছি। এই প্রস্তাবনাগুলো অনুমোদন হলে হয়তো আমরা একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হবো।’

৩২ একর জায়গার ওপর তৈরি করা এই টার্মিনালে একযোগে তিনটি জাহাজ প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর মধ্যে দুইটি হবে কনটেইনারবাহী এবং অপরটি ডলফিন জেটির তেলবাহী জাহাজ। বছরে এই টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৫ লাখের বেশি। অন্তত ২২ বছরের জন্য সৌদি আরবের এই প্রতিষ্ঠান পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করবে।

জি বি এক্স লজিস্টিক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন মুনতাসির রুবায়েত বলেন, যদি আমাদের ট্যারিফের কোনো ধরনের অসঙ্গতি না আসে অথবা আমাদের ওপর বাড়তি কোনো ট্যারিফ আরোপ করা হয়, সেটির কারণে ব্যবসায়ীদের হয়তো অতিরিক্ত খরচের বোঝা বইতে হবে। এমনটা যেন না হয়। চট্টগ্রাম বন্দরকে এ বিষয়টি খেয়াল করতে হবে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

বহিঃনোঙর থেকে অন্যান্য মাদার ভ্যাসেলগুলো ১২ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে বন্দরের জেটিতে আসতে হলেও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের দূরত্ব মাত্র ৬ নটিক্যাল মাইল।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর থেকে জাহাজগুলো সরাসরি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অবস্থান নিতে পারবে। এক্ষেত্রে যাত্রা পথে পেরোতে হবে না কোনো বিপদজনক বাঁধ। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দরের স্বল্প গভীরতার জন্য যেসব জাহাজ ভিড়তে পারে না, অর্থাৎ, ১০ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতার এবং ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অবলীলায় প্রবেশ করতে পারবে। এর কারণেই মূলত এই কনটেইনার টার্মিনাল অপারেট করার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করছিল। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে পাচ্ছে এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব। যারা বিনিয়োগ করবে অন্তত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।