২০২৪ সালে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ ২০২৪ সালেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৬৭তম সাধারণ অধিবেশনে একথা জানান তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসেই নিউক্লিয়ার ফুয়েল (ইউরেনিয়াম) রূপপুরে পৌঁছানোর মাধ্যমে পরমাণু প্রযুক্তির বৈশ্বিক এলিট গ্রুপে নিজের অবস্থান গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ আগামী ২০২৫ সালে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলেও জানান ইয়াফেস ওসমান।

রূপপুরের বিদ্যুৎ কবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, জানা...

আইএইএ’র ৬৭তম সাধারণ অধিবেশনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ‌‘স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১’ প্রণয়ন করেছে। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট এনার্জি এবং স্মার্ট সোসাইটিসহ বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের, ন্যায়সঙ্গত, টেকসই এবং উন্নত দেশে রূপান্তরিত করাই এই ভিশনের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, স্মার্ট এনার্জির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তিকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং টেকসই উন্নয়ন ও কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মন্ত্রী বলেন, দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের বিদ্যুৎ চুল্লি নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য। আমরা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষনাগাদ প্ল্যান্ট সাইটে প্রথম তাজা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছি। এই মাইলফলক শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তির দেশগুলির তালিকায় বাংলাদেশের প্রবেশকে চিহ্নিত করবে। আমরা আশা করি প্রথম ইউনিটটি আগামী বছর গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, আমাদের পোর্টফোলিওতে শক্তির একটি উল্লেখযোগ্য উৎস যুক্ত করবে। দ্বিতীয় ইউনিটটি এক বছর পরে চালু হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেছে।

সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের

সম্পূর্ণরূপে চালু হলে দুটি ইউনিট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কোভিড-১৯ মহামারী এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই প্রকল্পে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য আমরা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন, রোসাটমের সমর্থনের প্রশংসা করি।

ইয়াফেস ওসমান বলেন, বাংলাদেশ আইএইএ’র সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে অত্যন্ত মূল্য দেয়। পারমাণবিক শিল্পে নতুন হিসাবে, আমরা আমাদের পারমাণবিক অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, সংস্থাটির পিয়ার রিভিউ এবং অ্যাডভাইজরি মিশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সফল কমিশনিং নিশ্চিত করবে। সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসাবে আমরা ইতিমধ্যে পাঁচটি মিশন হোস্ট করেছি এবং আগামী বছরে আরও আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *