অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মান হচ্ছে “বীর নিবাস ”

৬ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীনে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মান হচ্ছে আবাসিক ভবন।

জিওবি অর্থায়নে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এ প্রকল্পটির কাজ করবে। প্রকল্পটি অনুমোদন ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে। তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ১২২ কোটি ৯ লাখ ৮৮৪ টাকা।

৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৯৩টি উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ কাজ করা হবে । যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। তবে নানা কারণে তা আর হয়নি।

গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটিতে ( একনেক) এ প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত আনা একনেকে। এতে ১ হাজার ৯৭৩ কোটি ৫ লাখ ৪৪১ টাকা ব্যয় বেড়ে ৬হাজার ৯৬ কোটি ৫ লাখ ৩২৫ টাকা প্রস্তাব করা হয়। এবং এক বছর সময় বাড়িয়ে অর্থাৎ ২০২৪ ডিসেম্বও মাসে প্রকল্পটির বস্তবায়নের শেষ সময় ধরা হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে গণপূর্ত বিভাগের রেইট সিডিউলের পরিবর্তনের, নির্মাণ কাজের ব্যয় প্রাক্কলন,বীর নিবাসে পাম্প স্থাপনে ব্যয় বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়েছে। এবং বীর নিবাসে ৯৭ বর্গফুট বারান্দা সংযোজনে ভবনের আয়তন বৃদ্ধি, অন্যান্য খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিও কথাও বলা হয়েছে এ সংশোধনিতে।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বোলিত অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস নামে ৩০ হাজার ভবন নির্মাণ করা হবে। সুপেয় পানির জন্য স্থাপন করা হবে ৩০ হাজার পানির পাম্প । জনবল, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, আউটসোর্সিং, যানবাহন ভাড়া ও ভ্রমণ সংক্রান্ত ব্যয়ও রয়েছে এর মধ্যে।

প্রকল্পটি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭৬৮.৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ১৩.২.২ নং অনুচ্ছেদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রচার, ঐতিহাসিক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, স্মৃতিসৌধ (প্লাজা) গণকবর প্রভ‚তি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ১৪.২.৩ নং অনুচ্ছেদে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বরাদ্দের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ আছে।

বাংলাদেশের অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর নিবাস নির্মাণ মূলত এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত : প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৩০ হাজার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য বিনামূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে।

প্রকল্পটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নির্বাচনে ২৩ হাজার ৫০০ ভবনের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৫ হাজার ভবনের (বীর নিবাস) এর উদ্ভোধন করা হয়েছে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবিত সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *