ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ

ফরিদপুর অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষে জন্য উর্বর। এ জেলায় তিন প্রকারের পেঁয়াজের আবাদ হয়। এরমধ্যে রয়েছে হালি পেঁয়াজ, দানা পেঁয়াজ ও মুড়িকাটা পেঁয়াজ । দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের দিকে থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তর জেলা ফরিদপুর।

চলতি রবি মৌসুমে ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিরা এক লাখ মেট্রিকটন মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই জেলার লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ চাষাবাদ শেষ করেছেন তারা। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাজারের মুড়িকাটা পেঁয়াজ উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পেঁয়াজ বাজারের অস্থিরতা কিছুটা কমবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ও ডিগ্রিরচর ইউনিয়নে কয়েকটি মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালিন মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ করার জন্য চাষিরা ক্ষেতে কাজ করছেন। কেউ নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ সেচ দিয়ে পানি দিচ্ছেন আবার কেউ প্রস্তুতকৃত জমিতে ভাল্ব (ছোট পেঁয়াজ) রোপন করছেন।

এসব ক্ষেতের চাষিরা জানালেন, এ বছর পেঁয়াজের ভাল দর পাওয়ায় রবি মৌসুমে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা ক্ষেত প্রস্তুত করেছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদের জন্য। সরকারি আবাদের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভাল্ব রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকতা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, শীতকালিন সময়ে দেশের মধ্যে শুধু ফরিদপুর অঞ্চলেরই এই পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে । অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চাষিরা মুড়িকাটা ভাল্ব সংগ্রহ করে ক্ষেতে রোপনের কাজ শুরু করে। আবহাওয়া উপযোগী থাকলে রোপনের ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে ফসল ঘরে তুলতে পারে তারা। সেই হিসাব মতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ক্ষেত থেকে চাষিরা তাদের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবেন।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরকারি হিসাব মতে প্রতি হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন হবে ১৮ থেকে ২০ মেট্রিকটন। জেলায় এ বছর ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হচ্ছে। যা থেকে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এক লাখ মেট্রিকটন।

চলতি বছরের নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চাষিরা তাদের ফসলটি বাজারে তুলতে পারবে আর এতে পেঁয়াজের অস্থির বাজার দর কিছুটা হলো স্থিতিশিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চাষি আক্কাস মন্ডল, জব্বার হোসেন, আব্দুল গফুর মোল্রাসহ বেশ কয়েক জন মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষি বলছেন, আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের অনুকুলে থাকলে এবার ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজার দর কৃষক পর্যায়ে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দর পেলে খুশি তারা।

পেঁয়াজ চাষিরা আরও জানান, বর্তমানে বাজারের পেঁয়াজের দর বেশি থাকায় তারা চাহিদার থেকে বেশি পরিমান জমিতে এবার শীতকালিন পেঁয়াজ চাষ করেছেন।

মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এলেই বাজার দরের অস্থিরতা কমে যাবে বলে মনে করেন ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, দেশের পেঁয়াজ ক্রাইসিস মৌসুমে চাষিদের মুড়িকাটা পেঁয়াজ ভোক্তাদের জন্য অনেকটা সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও জানান, জেলার চাষিরা শীতকালিন এই পেঁয়াজ যে পরিমাণ আবাদ করেছে তাতে উৎপাদন হবে লক্ষাধিক মেট্রিকটন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *