বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট

এবার দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাঁশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আজ শনিবার রাত ১২টা থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডের সিএফও এবাদত হোসেন ভূঁইয়া।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এবাদত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা গত মাসে একটি ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছি। দ্বিতীয় ইউনিটের কমার্শিয়াল অপারেশনের জন্য ১৫ অক্টোবর থেকে আমরা পরীক্ষামূলক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ শনিবার থেকে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যাবে। সরকার থেকে কমার্শিয়াল অপারেশন ডেট (সিওডি) সার্টিফিকেট নিতে হবে। এ ছাড়া ফুল লোডে ৭২ ঘণ্টা চালিয়ে দেখতে হয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে যেসব আনুষ্ঠানিকতা আছে, তা সরেজমিনে দেখার জন্য ঢাকা থেকে পিডিবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এসেছে। তারা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখেছে। ঢাকায় গিয়ে তারা বাণিজ্যিক উৎপাদনের (সিওডি) একটি সনদ দেবে। যেদিন থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাব, সেদিন থেকে সরকারের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি বাস্তবায়ন হবে।’

উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পিডিবি ঢাকার প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম জিয়াউল হক, কোল পাওয়ার জেনারেশনের পরিচালক রুকন উদ্দিন, একই সংস্থার উপপরিচালক নাজমুল হক, পিডিবির উপসচিব (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) নাজমুল হুদা, পিডিবি ঢাকার সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এনার্জি অডিটিং) তামিম খান, ডিরেক্টরেট অব কোল পাওয়ার জেনারেশনের (ডিসিপিজি) সহকারী প্রকৌশলী সানজিদা পারভিন, পিডিবি ঢাকার পরিচালক (ডিজাইন অ্যান্ড ইন্সপেকশন-২) মো. শহীদুল ইসলাম, পিডিবি ঢাকার এনার্জি অডিটিং ইউনিটের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল হোসাইন সেরাজী। এ ছাড়া এসএস পাওয়ারের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সিএফও জানান, দুই ইউনিট মিলে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। সরকারকে দেওয়া হবে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরুর পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে বাঁশখালীর (চট্টগ্রাম) গন্ডামারা এলাকায় বৃহৎ ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।

বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু শনিবার

বিদ্যুৎ- কেন্দ্রটি চালু হওয়ার আগে থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটি থেকে ট্যাক্স, ভ্যাট ও অন্যান্য ফি বাবদ প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। দেশের ভেতর থেকে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, করোনার মতো মহা- সংকটের সময় যখন কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হচ্ছিল, সেই সময়সহ টানা চার বছর ধরে সাত হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। প্ল্যানটি পুরোদমে চালু হওয়ার পর কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ২০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

উল্লেখ্য, বেসরকারি খাতে এস আলম গ্রুপ এবং সেপকো-থ্রির বিনিয়োগকৃত দেশের সর্ববৃহৎ এই কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপ- বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪০০ কেভি জিআইএস এনারজাই- জেশন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *