সরবরাহ সংকটে বাড়ছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম

বিশ্ববাজারে অব্যাহত বাড়ছে দুগ্ধপণ্যের দাম। এল নিনোর প্রভাবে খরা ও অতিবৃষ্টির কারণে পশুপালন ও দুগ্ধপণ্য উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। লোকসান এড়াতে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট থাকলেও চীনসহ প্রধান ভোক্তা দেশগুলোয় চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী, যা দাম বাড়ার পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) চলতি মাসের প্রথম নিলামে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১০৪ ডলারে। এ নিলামে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ৪২ হাজার ১৫ টন দুগ্ধপণ্য। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৩৮ হাজার ৩৫০ টন। নিলামে অংশ নেয় ১৬৪ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে জয়ী হয়েছে ১১৪ জন। এর আগে গত মাসের প্রথম নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ ও শেষ নিলামে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল।

এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫৮ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। নিলামে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। খামারিরা এটি থেকে সরাসরি মুনাফা লাভ করেন। প্রতি টন ডব্লিউএমপির দাম আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৯৩১ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৯ ডলারে। মাখনের মূল্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৮০৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রতি টন মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৫ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তবে চেডার পনিরের দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ৮৫৩ ডলারে নেমেছে। ল্যাকটোজের দাম কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৫৯৪ ডলারে।

নিউজিল্যান্ডভিত্তিক দুগ্ধপণ্যের তথ্য পরিষেবা দাতা প্রতিষ্ঠান এনজেডএক্সের বিশ্লেষক এলেক্স উইনিং জানান, বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান সংকটের প্রভাবে দুগ্ধপণ্য উৎপাদন ব্যয় লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ উৎপাদন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়াও দুগ্ধপণ্য উৎপাদনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও খরা আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পশুখাদ্য উৎপাদনে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মিলগুলো।

দুগ্ধপণ্যের শীর্ষ ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলো। এর মধ্যে ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ ও মাখনের সবচেয়ে বড় ক্রেতা উত্তর এশিয়ার দেশগুলো। অন্য ক্যাটাগরির পণ্যগুলো কেনার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। উইনিং জানান, সর্বশেষ নিলামে উত্তর এশিয়ার দেশগুলোয় ক্রয়ের পরিমাণ বেড়েছে। কারণ চীনে উৎপাদন কম হওয়ায় অঞ্চলটির মজুদে টান পড়েছে।

ওয়েস্টপ্যাকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নাথান পেনি জানান, গত আগস্টে ডব্লিউএমপির দাম গড়ে ১৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সর্বশেষ নিলামে দাম বাড়লেও তা ওই দরপতনের ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পাঁচ বছরের গড় হিসাবের তুলনায় দাম ১৬ শতাংশ কমেছে।