শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি শেয়ারের বিপরীতে তিনটি অধিকারমূলক বা রাইট শেয়ার দেওয়ার কথা জানায় ন্যাশনাল টি। এছাড়া জানানো হয়, কোম্পানিটির মালিকানায় থাকা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টে নতুন করে শেয়ার বিক্রি করার কথাও।

মূলত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা করার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুপাত অনুযায়ী সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ঠকানো হয়েছে। কারণ তিন ধরণের শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি।

ন্যাশনাল টির আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কোম্পানিটিকে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিটি শেয়ারের দর ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সা করে কোম্পানিটিকে অনুমোদন দেওয়া হয় মোট ২ কোটি ৩৪ লাখ শেয়ার ইস্যুর।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কর্তৃক ন্যাশনাল টি’র রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদনের খবরে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়ে যায়। ফলে শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল শেয়ারবাজারে ন্যাশনাল টির শেয়ারদর ছিল ৬০০ টাকা ১০ পয়সা। সেদিন কোম্পানিটির মাত্র ১০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছিল। অপরদিকে ১৬ এপ্রিল কোম্পানিটির রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদনের খবরে শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪৫ টাকা ১০ পয়সায়। একদিনেই কোম্পানিটির ১০ হাজার ৪৩৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

এদিকে ন্যাশনাল টি কোম্পানি নিয়ে যখন বিনিয়োগকারীরা আশায় বুক বাধে ঠিক তখনই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি আদেশ তাদের হতাশ করে দেয়। গত ১৩ জুলাই ডিএসইর ওয়েবসাইটে জানানো হয়, বিএসইসি ন্যাশনাল টির রাইট শেয়ার ইস্যুর আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে কোম্পানিটি কোনো নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানায় বিএসইসি। এরপর থেকেই কমতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর। সোমবার (৯ অক্টোবর) কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বশেষ ৪৪৪ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

আব্দুল মালেক নামে ন্যাশনাল টি’র একজন সাধারণ শেয়ারহোল্ডার বলেন, রাইট শেয়ারটি স্থগিত হওয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার মতো এমন অনেক বিনিয়োগকারী আছেন, এর কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমি মনে করি কোম্পানিটির রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কারণ তিন ধরণের শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়। সবার জন্য সমান অনুপাতে শেয়ার ইস্যু না করে বৈষম্য করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার এ সিদ্ধান্তটি স্থগিত করায় আরো বেশি বিপাকে পড়েছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশনের প্রতি আমাদের দাবি অতিদ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য যেন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কমিশনের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি তাঁরা বিষয়টি দ্রুতই সমাধান করবেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য ন্যাশনাল টি’র কোম্পানি সচিব মোল্লা গোলাম মোহাম্মদের সঙ্গে গত দুইদিন বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে কোম্পানিটির কোন মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানির শেয়ার ইস্যু নিয়ে সম্ভবত উচ্চ আদালতে একটি রিট হয়েছে। মহামান্য আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে কোম্পানিটির রাইট শেয়ার ইস্যু নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।