ভারত-ভিয়েতনামের মতো সম্ভাবনাময় দেশের শেয়ারবাজার

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ আছে বলে মনে করছে এইচএসবিসি গ্লোবাল। বুধবার ‘দ্য ফ্লাইং ডাচ্‌ম্যান’ শিরোনামে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে বৈশ্বিক ব্যাংকটির গবেষণা বিভাগ।

এইচএসবিসি এমন সময় এ মন্তব্য করল যখন দেশের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক দরপতনের আতঙ্কে লাভ বা লোকসানের দিকে না তাকিয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন। এ কারণে বুধবারও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যদিও দরপতন রুখতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গত বছরের জুলাই মাসে দ্বিতীয় দফায় সব শেয়ারের দরে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দরসীমা আরোপ করেছিল, যা এখনও কার্যকর আছে। এ দর সীমা বর্তমান বাস্তবতায় অনেক বেশি, যার কারণে এ দরে শেয়ার কিনতে কেউ আগ্রহী নয়। ফলে সিংহ ভাগ শেয়ার কেনাবেচার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গতকালও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৯১ এবং দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২১১ কোম্পানির একটি শেয়ারও কেনাবেচা হয়নি। তালিকাভুক্ত ৩৯২ কোম্পানির মধ্যে ২৪০টির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে।

আশাবাদ ব্যক্ত করতে গিয়ে এইচএসবিসি বলছে, এটা সত্য যে এ বাজারটি এখনও খুবই ছোট এবং তারল্য সংকটে আছে। জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধন বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বাজারগুলোর একটি বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। তারপরও গত দুই দশকে ভারত বা গত এক দশকে ভিয়েতনামের মতো কোম্পানির ব্যবসা ও মুনাফা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থেকে  মূলধনি মুনাফা পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা এশিয়া অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে খুবই কম।

ব্যাংকটি আরও বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা এশিয়ার অন্য অধিকাংশ দেশের তুলনায় বেশি। আগামী পাঁচ বছরে তা ৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এমনকি সম্প্রতি জনপ্রতি জিডিপি হারে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। এশিয়ার মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদের জনমিতির সুবিধাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি বাজার হতে যাচ্ছে। এ বাজার ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের থেকেও বড় হবে।

অবশ্য সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এইচএসবিসির গবেষণা বিভাগ। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের ক্রমাগত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির চাপ ও দরপতন রুখতে আরোপ করা ফ্লোর প্রাইসের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। এর বাইরে মুদ্রা বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতা, মন্দ ঋণ, রাজনৈতিক অস্থিরতাও ভাবনার বিষয়। দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি ২৫ বছরের কম বয়সী হলেও তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *